Dr. Neem on Daraz
Victory Day

লালনগীতির প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৫৩


আগামী নিউজ | সাঁঈজি সিরাজ সাঁঈ প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০১৯, ০৯:০৯ পিএম
লালনগীতির প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৫৩

তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে
তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে॥
একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে
দৌঁড়ে যেয়ে,
তার জেতের বোল এমন পাগল
কে দেখেছে॥
একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা
করঙ্গ দোষে,
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধুলোর মাঝে॥
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি
বুঝবি শেষে॥
পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন
হয় তরাসে
চৈতে নিতে অন্ধে পাগল
নাম ধরেছে॥

প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা: কোন জ্ঞানী সত্ত্বা সব সময় প্রজ্ঞাবান অবস্থায় থাকে। জ্ঞানে না থাকলে তার মধ্যে স্বাভাবিকতা থাকে না। জ্ঞান মানুষকে অশান্ত অবস্থা থেকে শান্ত অবস্থায় বজায় রাখে। সাঁইজী লালন যে ব্যক্তি স্বত্ত্বা লোভ, দ্বেষ ও মোহের মধ্যে বিজড়িত থাকে তাকে পাগল বলে আখ্যা দিয়েছেন। মানুষ তার সমস্ত কর্ম ধারাকে তিনটি অবস্থার কারণে করে থাকে। এই তিন অবস্থাকে লালন সাঁইজী তিন পাগলের হলো মেলা নদে এসে বলে উল্লেখ করেছেন। সকল কর্ম কোন না কোন ভাবে লোভ, দ্বেষ এবং মোহ দ্বারা আবৃত্ত। সে কোন কর্ম করে লোভের বশবর্তী হয়ে। আবার অনেক কর্ম করে যেখানে দ্বেষ বা বিদ্বেষ বিজড়িত। অনেক সময় মোহগ্রস্থ অবস্থায় নিজেকে আর স্বাভাবিক শান্ত অবস্থায় রাখতে পারে না। তাই সেই অস্বাভাবিক অবস্থাকেই লালন সাঁইজী তিন পাগলের মেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিন পাগলের হল মেলা নদে এসে। লোভ, দ্বেষ ও মোহ এই তিন পাগল নদ অর্থাৎ মানব দেহ। এই মানব দেহে তিন পাগল ভর করেছে। সে জ্ঞানে না থাকার কারণ সে এখন আর স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। তার এই অস্বাভাবিক এবং পাগল অবস্থার মূলে কাজ করছে লোভ, দ্বেষ ও মোহ এই তিন পাগল। সাঁইজী এই তিন পাগলের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন। এই তিন পাগলের কাছে গেলে নিজেও পাগল হতে হবে।

কোন ধ্যানী জ্ঞানী ব্যতিত এই তিন পাগলের হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। ধ্যানী জ্ঞানই কেবল এই মহা শক্তিধর তিন শক্তির হাত থেকে কোন ব্যক্তি স্বত্ত্বাকে বাঁচাতে পারে। এই তিন বদগুণ মানুষকে অনন্ত তৃষ্ণায় ফেলে দেয়। এই তৃষ্ণা তাকে আমৃত্যু অশান্ত করে রাখে। তৃষ্ণার্ত লোক যেমন পানির অভাবে নিজেকে শান্ত অবস্থায় রাখতে পারে না, তেমনি বস্তুর আকর্ষণ বা তৃষ্ণা মানুষকে জন্ম-জন্মান্তরের মধ্যে ফেলে দেয়। শান্ত বা তৃষ্ণাবিহীন থাকা তার পক্ষে কোন অবস্থাতেই সম্ভব না। কারণ লোভ, দ্বেষ ও মোহ তাকে পাগল করেছে। যতদিন ধ্যান জ্ঞান দ্বারা এই তিন পাগলের অবস্থা থেকে উপরে প্রতিষ্ঠিত না করবে ততদিন তার আর পাগলামী যাবে না এবং সে কোন অবস্থাতেই শান্ত হতে পারবে না। তার এই বস্তুগত লোভ, দ্বেষ ও মোহ মৃত্যুর পরবর্তীতেও বিজড়িত করে রাখে সেই বেহেস্ত বা স্বর্গের লোভে। দ্বেষ বসে সে অন্য ধর্মের লোকেকে সে ঘৃণা করে। বস্তুর মোহে তুচ্ছ অবস্থা তাকে বস্তুময় করে তোলে। তার চিন্তা চেতনা এই তিন অবস্থার বাইরে যাওয়ার কোন পথ নেই।

সমস্ত পৃথিবীর সকল ব্যক্তি স্বত্ত্বা আজ এই লোভ, দ্বেষ ও মোহা গ্রস্থ অবস্থায় আছে। একটা জ্ঞানী স্বত্ত্বা তার সাধনার কারণে মহাজ্ঞানের জোড়ে এই তিন মহাশক্তির বেড়াজাল ছিড়ে নিজেকে মুক্ত করতে পারে। তার ধ্যান জ্ঞানই পারে এই পৃথিবীময় পাগলামির বেড়াজাল থেকে নিজেকে মুক্ত করতে। ধ্যানজ্ঞান না থাকলে তার আর কোন মুক্ত অবস্থায় আসা সম্ভব নয়। তার এই পাগলামী অবস্থাও তার নিজের কর্মদোষে সৃষ্ট। নিজের তৈরী এই বেড়াজাল নিজেকেই তার সর্বশ্রেষ্ঠ ধ্যান জ্ঞানের শক্তি দ্বারা কেটে বের হয়ে আসতে হবে। এটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সফলতা।

২৩-০৮-২০১৬ 

সকাল: ৬:১০

আগামী নিউজ এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আগামী নিউজ এর ফেইসবুক পেজ এ , আগামী নিউজ এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আগামী নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে