
ঢাকাঃ ভারতের অন্তর্ভুক্ত কাশ্মিরে বিজেপি সরকার মুসলমানদের সংখ্যা কমাতে চায় বলে দাবি করেছে নাগরিক ফোরাম।
শুক্রবার প্রেস ক্লাবে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘মৌলিক অধিকার মানবিক কর্তব্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন।
নাগরিক ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিল করে ভূস্বর্গ কাশ্মির এখন ভয়ের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরকে যে বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত এলাকার মর্যাদা দিয়েছিল ৩৭০ ধারা, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট তা বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। যা ১৯৪৭ সাল থেকে গত ৭০ বছর ধরে ছিল।
তিনি আরেও বলেন, এই ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ যোগ হয়েছিল ভারত ও কাশ্মীরের নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে। দুটি ধারাই বাতিল করে দেওয়া হয়। ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মিরে যে কেউ এখন জমি-বাড়ি কিনতে পারবে ভিন্ন অঞ্চল থেকে। অথচ জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেওয়া ছিল। যা বিশেষ ৩৭০ ধারা অনুযায়ী। পররাষ্ট্র প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে কাশ্মীরের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা হয়। কিন্তু ভারতে বর্তমানে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির নির্বাচনী ওয়াদা ছিল এটা বাতিল করা। কাশ্মীরের বাইরের মানুষকে সেখানকার জমি কেনার বৈধতা প্রদান করে বিজেপি আসলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের জনতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বদলাতে চায়। এর মানে হচ্ছে মুসলিমদের সংখ্যা কমিয়ে আনা ও অন্যান্য ধর্মের মানুষদের সুবিধা দিয়ে তাদের সংখ্যা বাড়ানো।
সর্বশেষ গত জুলাই মাসে ৩৭০ ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা পিটিশনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছে ভারতের উচ্চ আদালত। আগস্ট মাস থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে এই শুনানি শুরু অনুষ্ঠিত হবে। এমন প্রেক্ষাপটে শিল্পোন্নত ও স্বল্পোন্নত ২০ দেশের সংগঠন গ্রুপ টোয়েন্টি বা জি-২০-র পর্যটক বিষয়ক কার্যকরী কমিটির বৈঠক ভারত-শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরে। কিন্তু কাশ্মিরে ভারতের অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে গিয়ে জি-২০ সদস্য রাষ্ট্র চীন, সৌদি আরব ও তুরস্কের এ বৈঠক বয়কট করেছে। সুতরাং বিজেপির এখন হিন্দু সাম্প্রদায়িক নীতি থেকে সরে এসে কাশ্মীরে আবারও ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল করা উচিত।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ফোরামের সভাপতি আবদুল্লাহিল মাসুদ, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনা বিচারপতি আবদুর রউফ প্রমুখ।
এমআইসি