Dr. Neem on Daraz
Victory Day

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: সেন্টমার্টিনে ১৩ ট্রলার সাগরে তলিয়ে গেছে


আগামী নিউজ | জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২২, ০৪:১২ পিএম
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: সেন্টমার্টিনে ১৩ ট্রলার সাগরে তলিয়ে গেছে

কক্সবাজারঃ ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। এরই মধ্যে ঘাটে নোঙর করা ১৩টি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকেই ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে সেখানে। প্রচণ্ড বেগে বয়ে যাচ্ছে ঝোড়ো ও দমকা হাওয়া। ফলে গাছপালা ভেঙে যান চলাচল ব্যাঘাত ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, সকাল থেকেই দ্বীপের চারপাশে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪-৫ ফুট বেড়েছে। এলাকার কিছু কিছু জায়গায় পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘাটে নোঙর করা ১৩টি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে একটি মানুষ পারাপারের বোটও রয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে শিগগির খাদ্য সংকট দেখা দেবে দ্বীপে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, গাছপালা ভেঙে পড়ার কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ট্রলার ডুবে গেছে। লোকজনকে নিরাপদে রাখতে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কাজ চলছে।

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া চার শতাধিক পর্যটককে রোববার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে পর্যটকবাহী জাহাজে ফিরিয়ে আনা হয়। এই মুহূর্তে সেখানে কোনো পর্যটক আটকে নেই বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। তবে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে,  সকালে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরকে ছয় নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলেছে। এছাড়া এসব এলাকার পার্শ্ববর্তী দ্বীপ ও চরগুলোকেও ওই অঞ্চলের বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে সেখানে ৫৭৬টি সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ৮৫টি মেডিকেল টিম। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ যাবতীয় সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। এছাড়াও সমুদ্র সৈকতে পর্যটক নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। 

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাঁচ লক্ষাধিক লোক ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে উপকূলের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা হাতে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি সব কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলের পাশাপাশি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আট উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে পর্যটক না নামার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। 

এমএম

আগামী নিউজ এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আগামী নিউজ এর ফেইসবুক পেজ এ , আগামী নিউজ এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আগামী নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে