ফাইল ছবি
রংপুরঃ জেলার পীরগাছায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১২আগস্ট) রাতে উপজেলা পারুল ইউনিয়নের গুঞ্জর খাঁ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বামীর পরিবার বিষয়টি আত্মহত্যা বললেও নিহতের আপন ভাই বলছে, তার বোনকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পারুল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খাঁন ও কল্যাণী ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২আগস্ট) গভীর রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ভোর রাতে তিনি মারা যান। নিহত গৃহবধূ হাজেরা বেগম (৩৬) ওই গ্রামের কীটনাশক ব্যবসায়ী সাহেব আলীর স্ত্রী ও পাশর্^বর্তী কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক উপাসু গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিনের মেয়ে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের ভাই ফজর আলী জানান, নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী কীটনাশক ব্যবসায়ী সাহেব আলী দীর্ঘদিন থেকে পরকীয়ায় আসক্ত। তাদের সংসারে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো।
গত বুধবার রাতেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজেরা বেগমকে মারপিট করে সাহেব আলী। বৃহস্পতিবার রাতে আবারো বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হলে হাজেরা বেগমকে বেদম মারপিট করে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এতে হাজেরা বেগম জ্ঞান হারালে তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে রাত ২ টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে হাজেরা বেগম মারা যান।
শুক্রবার (১৩আগস্ট) সকালে কল্যাণী ও পারুল ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্ততায় মিমাংসার জন্য বসা হলেও নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে পীরগাছা থানা পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বামী সাহেব আলী পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাজেরা বেগমের ভাই ফজর আলী বলেন, আমার বোনের মাথা, ঘাড়,গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে কৌশলে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে স্বামীর পরিবার।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।