ঢাকাঃ আইনট্রাঁখ ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে কাল ঘরের মাঠে চিরচেনা বার্সেলোনার দেখা মিলবে, তেমনটাই প্রত্যাশা ছিল ভক্তদের। বিশেষ করে প্রথম লেগে সাদামাটা এক ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে আরও জোরদার হয়েছিল দারুণ কিছুর দাবি। তবে সমর্থকদের লজ্জায় ভাসিয়ে সেই নু ক্যাম্পেই নিশ্চিত হল ইউরোপা লিগ থেকে ব্লগরানাদের বিদায়।
ফুটবলে অন্যতম সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী ক্লাবটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না খেলতে পারাটাই ছিল বিষ্ময়। এবার ইউরোপা লিগ থেকে ছিটকে গিয়ে বড় ধাক্কাই খেল কাতালান ক্লাবটি। এদিন শুরুতেই পচা শামুকে পা কাটে জাভি হার্নান্দেজের শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে এরিক গার্সিয়ার ভুলে পেনাল্টি পায় ফ্রাঙ্কফুর্ট।
কোন ভুল না করে স্পটকিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন ফিলিপ কসটিক। নবম মিনিটে সমতা ফেরানোর মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করেন পিয়েরে এমরিক অবামেয়াং। উসমান দেম্বেলের ক্রসে মাথা ছোঁয়ালেও রাখতে পারেননি বারে। মান বাঁচাতে মরিয়া বার্সা এরপর আক্রমণ করেছে বারবার।
১৮ মিনিটে রোনাল্ড আরাহোর শট ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন ফ্রাঙ্কফুর্ট গোলরক্ষক কেভিন ট্র্যাপ। এরপর দুই দলই প্রতিপক্ষ রক্ষণে চালিয়েছে একের পর এক আক্রমণ। ইনিজুরি প্রবণ দেম্বেলে বেশ কয়েকবার শিকার হয়েছেন ফাউলের। ৩৬ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক লং শটে টার স্টেগেনকে বোকা বানান রাফায়েল বোরে।
কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ডের নেয়া নিঁখুত শটটি টার স্টেগেনের মাথার ওপর দিয়ে বারপোস্ট ঘেষে জড়িয়ে যায় জালে। এরপর দুই দল আর কোন গোল করতে না পারলে ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
৪৮ মিনিটে আরও একবার শিশুসুলভ ভুল করেন অবামেয়াং। গোলরক্ষক আগেই পরাস্ত হয়েছেন, তার দায়িত্ব ছিল শুধু পা ছুঁইয়ে বলটাকে জালে পাঠানো। সেই সহজ কাজটাও করতে পারলেন না গেবন অধিনায়ক। এদিন বার্সেলোনার বল পজেসন বেশি থাকলেও আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। ব্লগ্রানাদের চেয়ে প্রতিপক্ষের গোলমুখে শটও বেশি নিয়েছে তারা।
৬০তম মিনিটে হ্যান্ডবল বিতর্কের সৃষ্টি হলেও ভি আরের সাহায্য নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্রাঙ্কফুর্টের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৬৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আবারও দলকে এগিয়ে নেন কস্টিক। অবশিষ্ট সময়ে বার্সা রক্ষণে আরও কয়েকবার নাড়া দেয় জার্মান ঈগলেরা।
শেষদিকে সার্জিও বুস্কেটস গোল করলেও অফসাইডে বাতিল হয়ে যায় সেটি। তবে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে জোরালো লং শটে আক্ষেপ কিছুটা ঘুচান বর্ষীয়ান মিডফিল্ডার।
শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে ফ্রাঙ্কফুর্ট সেন্টার ব্যাকের ভুলে পেনাল্টি পায় কাতালানরা। গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন মেম্ফিস ডেপাই। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের দ্বিতীয় আসর থেকেও খালি হাতে ফিরতে হলো বার্সেলোনাকে।
এমএম