কানাডায় দেখা যায় শুধু বরফ আর বরফ, শীত আর শীত। তবে এই শীত প্রধান দেশটিতেও চারটি ঋতু বিরাজমান। গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত।
জুন, জুলাই আর আগস্ট এই তিন মাস এখানে গ্রীষ্মকাল। তখন গাছে গাছে দেখা যায় সবুজ পাতা, বয়ে যায় হালকা বাতাস, কাটে সুন্দর সময়। তেমন গরম না পড়ায় সময় কাটে অতুলনীয়। রাত নয়টায় সূর্যাস্ত হওয়ায় দিন অনেক বড় হয়। তখন চলে কানাডার মানুষের কাছে সুদিন। তারা‘বারবিকিউ’পার্টির, মনের আনন্দে সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়ানো, সারাদিন রোদ্রস্নান করেন। যেন তারা ভুলে যায় তুষার আবৃত কানাডার কথা।
সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই তিন মাস হলো কানাডার শরৎকাল। কানাডাজুড়ে দেখা যায় বিভিন্ন জাতের ম্যাপেলগাছ। এই সময়ে ম্যাপেলগাছের পাতাগুলো লাল-হলুদ-গোলাপি রঙে ছেয়ে যায় দেখে মনে হয় যেন কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি। আকাশে ওড়ে সাদা মেঘ, বিভিন্ন পাখিদের ওড়াওড়ি আর গাঙচিলের কিচিরমিচিরে মুখর হয় চারদিক। প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ দেখে মোহাচ্ছন্ন হতে হয়। প্রকৃতির এক চমৎকার পরিবর্তন হয় শরৎকালে। তখন হালকা শীত চলে আসে। শীতের কেনাকাটা মানুষজন শুরু করে দেয়।
ডিসেম্বর, জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি এই তিন মাস হলো কানাডার শীতকাল। পুরো শীতকাল জুড়ে প্রচণ্ড তুষারপাত হয় কানাডায়। কোনো কোনো প্রদেশে হিমাঙ্কের ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড নিচে থাকে তাপমাত্রা। তুষার ঝড়ের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় ।প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ। যদিও কানাডা অনেক উন্নত দেশ, তারপরও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। তুষার ঝড়ে ভেঙে পড়ে বড় বড় গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি আর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অনেক এলাকা। শীতকালে রাস্তাঘাট থেকে তুষার সরানোর জন্য নামানো হয় স্নো-ট্রাক। হাইওয়েগুলো পিচ্ছিল থাকার কারণে গাড়ির গতিসীমা কমানো হলেও ঘটে নানা দুর্ঘটনা। প্রচণ্ড শীতেও দেখা যায় ছোট ছোট ছেলেমেয়ে তুষার নিয়ে খেলছে। তারপরও মানুষজন খুব কমই বাইরে থাকে। কানাডাতে রয়েছে বড় বড় শপিং মল। শীতের সময়টাতে মানুষজন কেনাকাটা আর আনন্দের জন্য শপিং মলই বেশি পছন্দ করে।
শীতের শেষে আসে বসন্তকাল। মার্চ, এপ্রিল আর মে মাস হলো কানাডার বসন্তকাল। গাছে গাছে শুধু ফুল আর ফুল। নানান জাতের গাছ রয়েছে, যেগুলোতে কোনো পাতাই থাকে না, থাকে বিভিন্ন রঙের ফুল। মানুষজন বাড়ির আঙিনায় নানা জাতের ফুলের গাছ লাগিয়ে থাকে। তখনো কিন্তু বেশ শীত পড়ে। সবাই গ্রীষ্মকালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। শুরু হয়ে যায় গ্রীষ্মকালের পোশাকের কেনাকাটা। ফুলগুলো যেন তাড়াতাড়ি ঝরে যায় কানাডিয়ানদের গ্রীষ্মের আনন্দ দেয়ার জন্য। এভাবেই তাদের সুদিন গ্রীষ্মকাল ফিরে আসে।
এখন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়। শীতও তীব্রভাবে পড়েছে। গতকাল সকালে টরন্টোর তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ২০-এ। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কানাডার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩৫। চলতি বছর এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস মতে, ফেব্রুয়ারির বাদ বাকি দিনগুলোতে খুব বেশি শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। চলতি মাসের শেষ দিক থেকেই বসন্তের আগমনী বার্তা আসতে শুরু করবে।
আগামীনিউজ/হাসি