ঢাকাঃ ২৩ শর্তে মোহাম্মদপুর থানাধীন শহীদ পার্ক মাঠে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দেশব্যাপী নিরপেক্ষ নির্বাচন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ১০ মার্চ দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সোমবার ঢাকা উত্তরে কাওরান বাজার মোড়, মোহাম্মদপুর শহীদ পার্ক এবং খিলগাঁ তালতলা মাঠ এবং ১৬ মার্চ দক্ষিণে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠ অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যেকোন স্থানে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনির হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন বিএনপির প্রতিনিধি দল।
এ্যানি বলেন, পরের দিন মঙ্গলবার আমাদেরকে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষে থেকে বলা হয়েছে সমাবেশ করলে কোন আপত্তি নেই।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ইতিমধ্যে প্রত্যেকটা বিভাগীয় শহরে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আমরা। কর্মসূচিগুলো হলো ভোট কারচুপির প্রসঙ্গে। সর্বশেষ বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সারাদেশে যে নির্বাচনগুলো হচ্ছে সে নির্বাচনগুলোতে ভোট কারচুপি হচ্ছে, দিনের ভোট রাতে হচ্ছে এবং ভোটের অধিকার থেকে দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকাতেই আমরা দুটি জনসভার আহ্বান করেছি। একটি ঢাকা উত্তর এবং আরেকটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়র’ল কবির খান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে রাজধানীতে তেমন বড় কোনো কর্মসূচি ছিল না বিএনপির। এছাড়া করোনাকালে তারা বিক্ষোভ সমাবেশসহ শুধু সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সমাবেশের মাধ্যেমে রাজধানীতে বড় শোডাউন করতে চায় মহানগর বিএনপি।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বিভাগীয় শহরে ছয়টি সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এরই মধ্যে তিন বিভাগে সমাবেশ করেছে দলটি। আগামী ২০ মার্চ চট্টগ্রামে সমাবেশ হবে। এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে দুটি সমাবেশ হবে।
আগামী ১৬ মার্চ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে হবে আরেকটি সমাবেশ। এজন্য নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- এই তিনটি স্থানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
ঢাকার কর্মসূচি সফল করতে মহানগর বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাবিথ আউয়ালকে ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে। তারা ইতোমধ্যে থানা-ওয়ার্ড নেতাদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।
আগামীনিউজ/এএইচ