‘শেখ হাসিনা নেতৃত্বে না আসলে রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি হতো না‍‍‍‍`

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২০, ০৯:১২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে না আসলে রাষ্ট্র ও সমাজের আজকের যে অগ্রগতি তার কিছুই হতো না। তারপরও এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর। আর সে এগিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম।

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘উইমেন লিডারশিপ ইন বাংলাদেশ মিডিয়া : চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্যা ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শিরোনামে যৌথভাবে এক সেমিনারের আয়োজন করে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব এবং ঢাকার সুইডেন দূতাবাস। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই নারীর ক্ষমতায়নের পথে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনকেও নারী হিসেবে কিভাবে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে, সেটা সবাই দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষ বৈষম্য কমাতে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে তার প্রমাণ বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সূচক থেকেই পাওয়া যায়। নারী-পুরুষ বৈষম্যের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৩ দেশের মধ্যে ৫০তম, যে অবস্থান অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত দেশের চেয়েও উপরে।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে যতটুকু অগ্রগতি, উন্নতি, সমৃদ্ধি তার কিছুই হতো না যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে না থাকতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের অর্জনের অংশ বাদ দিলে বাংলাদেশের অর্জন বলতে খুবই সামান্যই আছে। ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জ আছে সে পথ পাড়ি দিতেও কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দরকার।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুবই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে। সুইডেন এখন যে অবস্থানে আছে সেখানে পৌঁছতেও অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশও অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

ইউএন উইমেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বাংলাদেশে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা আলোচিত হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়, তবে এক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বদল হলে সাংবাদিকতার মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশে নারীর ক্ষমতায়নে অনেক বড় সাফল্য এসেছে। সেই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতেই হবে। একই সঙ্গে তৃনমূল পর্যায়ে থেকে যে নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে এসেছেন এবং আসছেন তাদের ক্রমান্নয়ে জাতীয় নেতৃত্বের পর্যায়ে আনতে হবে। কেউ কাউকে কোনো কিছু অর্জন করে দিতে পারে না, অর্জন করে নিতে হয়। চাইলেই যে কাউকে নেতৃত্বে নিয়ে আসা যাবে না যদি না কেউ পরিশ্রম করে, মেধা দিয়ে অবস্থান তৈরি করতে পারে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় ৮৪ শতাংশ পুরুষ এবং মাত্র ১৬ শতাংশ নারী কাজ করছেন। সাংবাদিকতায় যত নারী আছেন তার মধ্যে ১৯ শতাংশ টেলিভিশনে, ৩৩ শতাংশ রেডিওতে এবং মাত্র ৮ শতাংশ সংবাদপেত্রে কাজ করছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীদের অবস্থান নেই বললেই চলে।

ডিক্যাব সভাপতি আঙুর নাহার মন্টির সভাপতিত্বে এ সেমিনারে আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটার, ইউএন ইউমেন এর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ শোকো ইশিকাওয়া, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃসংযোগ অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাদিয়া হালিম, আঞ্চলিক সংস্থা অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাহিদা রহমান সুমনা প্রমুখ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিক্যাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও গবেষক শামীম আরা শিউলি।  

আগামীনিউজ/সুশান্ত/নুসরাত