ঢাকা: ধামরাইয়ে একটি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেন্দ্রে ৫০০ লোক রাখার ঘোষনা দিয়েছেন সাভার পৌর মেয়র।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়রের বক্তব্যের এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই ইউনিয়নের অন্যান্য প্রার্থীরা।
সোমবার সন্ধ্যায় ধামরাইয়ে কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা গ্রামে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় এমন বক্তব্য দেন সাভার পৌর মেয়র।
এসময় তিনি সাভার পৌর সভার ১নং কাউন্সিলরকে রমজান আলীকে এই নির্দেশ দেন। ভিডিওতে মেয়র বলেন, 'অনেকে আওয়ামী লীগ করে। আবার অনেকে আওয়ামী লীগ করে দলের সঙ্গে বেইমানী করে। এই সমস্ত বেইমানদের স্থান কোথায় হবে তা বুঝতে পারবেন নির্বাচনের পরে। যারা এতোদিন এই ১৫ বছর সুযোগ নিয়েছে আর এখন বেইমানি করছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
আমি কুল্লায় ঘুরছি, দেখছি কে কে কি করছে। আমি আমার পৌরসভা থেকে এই এলাকায় কিছু লোক সেটিং করছি। যাদের প্রতি সন্দেহ আছে, তাদের এক্টিভিটি দেখছি। এগুলা খুঁজে দেখবো। ব্যবস্থা নিবো।'
মেয়র আরও বলেন, 'ভোটের দিন সবাই কেন্দ্রে আসবেন। ভোট দিবেন। পৌরসভা থেকে রমজানের (১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সাভার) নেতৃত্বে, ওকে আমি দায়িত্ব দিয়েছি। ও (রমজান) ৫০০ লোক নিয়ে থাকবে। আপনারা ভোট দিবেন।' সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলে রমজান আলীকে উঠে দাড়িয়ে মেয়রের কথায় সমর্থন দিতে দেখা গেছে।
মেয়রের এমন বক্তব্যে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুল্লা ইউনিয়নের আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফর রহমান৷
তিনি বলেন, 'এই বক্তব্যটি একটি উষ্কানি মুলক বক্তব্য। মানুষকে একটা ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমাদের পুলিশ ও প্রশাসন আছে তারাই দেখবেন বিষয়টি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হোক৷ আচ্ছা একটা কেন্দ্রে যদি ৫০০ লোক বাইরে থেকে আসে তাহলে সেই কেন্দ্রে অবস্থা কি হবে? চিন্তা করা যায়? মানুষতো ভোটই দিতে যাবে না তাহলে৷ আমি বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত। আমি নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশে কাছে অভিযোগ দেবো আজ।'
সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গণি বলেন, 'আমিতো একটা মিটিংয়ে আছি।'
এ বিষয়র সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রমজান আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঢাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হুসাইন খান বলেন, 'এটা তিনি (মেয়র) করতে পারেন না। যদি অভিযোগ পাই আমরা ব্যবস্থা নেবো।'
আগামীনিউজ/ হাসান