নিয়োগ কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ অমান্য করে নিয়োগ বানিজ্য

বাবুল আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি  জুলাই ২৬, ২০২১, ০৩:৫৩ পিএম
ছবি : আগামী নিউজ

মানিকগঞ্জঃ জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্থগিতাদেশ অমান্য করে নিকটতম আত্মীয় ও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।  

অভিযোগ রয়েছে, ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ চলিত মাসেই শেষ হওয়ার কারনে তড়িঘড়ি করে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অফিস সহায়ক সাইদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা,কম্পিউটার অপারেটর কিরন হোসাইন প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নী জামাই, নৈশ প্রহরী মো: আরিফুল ইসলাম ম্যানেজিং কমেটির সভাপতির ভাগ্নে এবং আয়া পদে সাবিনাকে মোটা অংকের  অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায়।

গত ১৯ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সবুজসেনা উচ্চ বিদ্যালয়কে চিঠির মাধ্যমে যাবতীয় নিয়োগ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি চরকাটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেকের যোগসাজশে গোপনে তড়িঘড়ি করে শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ জুন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে এ নিয়োগ পরিক্ষার বিজ্ঞাপন প্রচার করা  হয়।  এরপর গত ১৫ জুলাই ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার আদেশ পান শিবালয় উপজেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হযরত আলী। মো: হযরত আলী ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরই গত ২২ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষা নেন। এ নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ডিজির প্রতিনিধি মো: হযরত আলী, চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আজিজুল হক, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল বারেক এবং ম্যানেজিং কমিটির অবিভাবক সদস্য আব্দুল হালিম। নামমাত্র নিয়োগ পরিক্ষায় ৪ টি পদের জন্য মোট ২৪ জন পরিক্ষার্থী আবেদন করে । এদের মধ্যে  আয়া পদের জন্য ৫ জন , নৈশ প্রহরী ৭ জন ,অফিস সহায়ক ৭ জন ও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদের জন্য ৫ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে মাত্র ১৯ জন।

চরকাটারী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: শরিফ উদ্দিন বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞত্তি বিষয়ে আমাদের নিয়ে একটা মিটিং করেছিলেন। তবে নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি। এই নিয়োগে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি অর্থ বানিজ্য করেছে একথা সত্য। প্রধান শিক্ষক আলমগীর নামের একজন ছেলের নিকট থেকে ১১ লক্ষ্য টাকা নিয়েছিল লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য্। এলাকাবাসীর অভিযোগে চাকরি না হওয়ায় তার স্ত্রী সাবিনা খানমকে আয়া পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কোনো নিয়োগ স্থগিত করার চিঠি পাইনি এবং এখানে অর্থ লেনদেনের কোন সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজির প্রতিনিধি হযরত আলী বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড হতে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার জন্য কোন চিঠি বা মেইল পাইনি। আমি ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে চিঠি পেয়ে এবং লকডাউন এর কথা চিন্তা করে ঈদের পরের দিনই নিয়োগ পরীক্ষার কাজ শুরু করি। আমি বোর্ড কর্তৃক  স্থগিতাদেশের নির্দেশ পেলে পরীক্ষা বন্ধ করে দিতাম। 

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা জাহানের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, যেহেতু চরকাটারী সবুজসেনা উচ্চ বিদ্যালয়কে বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতাদেশের চিঠি দিয়েছে, সেহেতেু এই নিয়োগ বাতিল বলে গন্য হবে এবং অর্থ বানিজ্যের কোন ঘটনা থাকলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।